heart disease

লাইফস্টাইল ডিজিজ: জীবনযাপনের ভুলে অল্প বয়সেই হৃদরোগের ঝুঁকি

0

তরুণ প্রজন্মের হৃদরোগের ঝুঁকি: এক নীরব বিপদ

একসময় হৃদরোগকে কেবল বয়স্কদের রোগ মনে করা হতো। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই ধারণা পাল্টে যাচ্ছে। এখন এটি আর শুধু বয়স্কদের রোগ নয়; বরং তরুণদের মধ্যেও হৃদরোগের ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে, যা আমাদের সবার জন্য এক নীরব বিপদ। ডাক্তারদের ভাষ্যমতে এই রোগকে লাইফস্টাইল ডিজিজ বলা হয়। অর্থাৎ, যে রোগগুলো সরাসরি জীবনযাত্রার সাথে সম্পৃক্ত তার মধ্যে হৃদরোগ উল্লেখযোগ্য।

এশিয়ায় হৃদরোগের প্রকোপ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর তথ্য অনুযায়ী, হৃদরোগ বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। এর একটি বড় অংশ ঘটছে এশিয়াতে। ২০১৯ সালে, বিশ্বব্যাপী হৃদরোগে যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তার প্রায় ৫৮% ঘটেছে এশিয়ায়। এটি হৃদরোগের ঝুঁকির কোনো শতাংশ নয়, বরং এটি হলো মোট মৃত্যুর একটি বড় অংশ। এর থেকে বোঝা যায়, হৃদরোগ মোকাবিলায় এশিয়া একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে হৃদরোগের চিত্র

বাংলাদেশে হৃদরোগের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৩০% হৃদরোগের কারণে হয়ে থাকে। এটি প্রমাণ করে যে হৃদরোগ দেশের মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।

তরুণদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণ

তরুণদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে:

তরুণদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে কেন?

চিকিৎসকদের মতে, এই ঝুঁকির প্রধান কারণগুলো হলো:

১. অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: ফাস্ট ফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় গ্রহণের কারণে অল্প বয়সেই উচ্চ কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এগুলো সরাসরি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

২. অপর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম: বর্তমান প্রজন্মের জীবনযাপন অনেকটা বসে থাকার ওপর নির্ভরশীল। খেলাধুলা বা নিয়মিত শরীরচর্চার অভাব স্থূলতা বাড়াচ্ছে, যা হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ। শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং ডিজিটাল ডিভাইসের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি তরুণদের স্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ফেলছে

৩. মানসিক চাপ: পড়ালেখা বা চাকরির ক্ষেত্রে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত কারণে তরুণদের মধ্যে মানসিক চাপ অনেক বেড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ হৃদপিণ্ডের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে।

৪. ধূমপান ও অ্যালকোহল: ধূমপান এবং অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন সরাসরি রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়।

প্রতিরোধের উপায়

এই নীরব বিপদ থেকে বাঁচতে হলে জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা জরুরি:

  • স্বাস্থ্যকর খাবার: ফাস্ট ফুডের বদলে তাজা ফল, শাকসবজি এবং শস্যজাতীয় খাবারকে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
  • নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, দৌড়ানো বা যেকোনো খেলাধুলা করা হৃদপিণ্ডের জন্য উপকারী।
  • মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: মেডিটেশন, পর্যাপ্ত ঘুম এবং পছন্দের কাজ করে মানসিক চাপ কমানো যেতে পারে।
  • ধূমপান ত্যাগ: হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে ধূমপান সম্পূর্ণভাবে পরিহার করা জরুরি।

দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থতা নিশ্চিত করতে এখনই সচেতন হওয়া এবং একটি সুস্থ জীবন বেছে নেওয়া জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *